কবিতা 

অক্ষর প্রবালের ৫ টি কবিতা

বুনট নীতি বিচ্ছিন্ন সমুদ্র মাদকতায় উড়ে গেছে নেশাতুর ঠোঁট তাই পথ হারিয়ে পা খুঁজে নেয় জুতোর গভীরতা। পথ কখনো বোঝে না ক্ষুধার গৌরচন্দ্রিকা- শুয়ে থাকে ঘাসের কান ঘেঁষে বিমূর্ত পথচারীর পা’য়। আবেগ অতি আঁঠালো কিসিমে’র ছাই গুটি হয়ে জমে যায় আঁটুলির ন্যায়। সঞ্চিত দুঃখ তবু খুঁজে ফেরে ঠোঁটের আয়ুরেখা। যার গোড়ায় লুকিয়ে আছে আয়ুর্বেদি প্রেম। কিন্তু জানে না- মাছ বিনিময়ের দুপুরে এদেশে মাছের গন্ধ- ‘হারাম’।   ফ্যাকাশে কাহন দৃশ্যের শেষে দাঁড়ি দিয়েও তার শেষ নামছে না এখনো। এখনো রঙিন কিশোর তুফান চারিদিকে সায়ানাইড ছিটিয়ে সব স্তব্ধ করে দেবে একদিন। তবুও…

Read More
কবিতা 

মাহ্ফুজ সরকারের দুটি কবিতা

এপিটাফ আমার সামনে সারি সারি জীবিত কঙ্কাল , টাকার অমসৃণ ত্বকে খোঁজে সুঘ্রাণ, তাৎস্বরে চেঁচ্ছাছে, গদিতে বসে বীর্য পান করা মন্ত্রীর দল। রাণী চলে গেছেন ঈশ্বরের আসনে, আসরের চারপাশে পাওয়া গেছে তেলের খনি। স্তন সর্বস্ব নারী ধোয়া তুলসিপাতা, বাজার ভর্তি হাওয়াই বেলুন। শুদ্ধতায় ভাড়ামি, তত্ত্ব-ফত্ত্ব যত্র-তত্র মূত্রপত্র। আমার সামনে সারি সারি জীবিত কঙ্কাল   দৃশ্য -ভ্রম দেখতে পারা অন্ধত্বের মূল, দৃশ্য আমাদের বিচ্ছিন্ন করে। আলোতো ভূমিষ্টই হয় আঁধারের গর্ভ হতে। আলো সমগ্রের উপরে পড়ে না বরং ক্ষুদ্রতাকেই স্পষ্ট করে। আমরা যা দেখি, যেভাবে দেখি তাই আমাদের অন্ধ করে। একটি দেখা…

Read More
কবিতা 

নাহিয়ান আতিকের পাঁচটি কবিতা

০১ আমাদের একাকী একাকিত্বকে অস্বীকার করে প্রায়শই দেখি জলে ভাসছে হাসের মত সাদা একটা বক্ষবন্ধনী, তার চারপাশে নীল-কাল মাছেদের রাজ্য। তোমার পাশে শুয়ে আমি ভেড়া গুনি আর চুমু খাই। চুমু খেলে ঘুম আসে তাই আবার ভেড়া গুনি কোনদিন নেকড়ে এলে আমরা সঙ্গম করি নৃত্যের তালে তালে যিশুর চেহারার স্নিগ্ধতার মত এক নরম ভোরে কফি ভর্তি বাথটাবে শুয়ে দেখি আমাদের ঘরদোর ভেঙে যায় । আমরা ঘর তুলতে পারি না তাই নতুন নতুন দেয়াল তুলি। সম্পর্কেরা একটু একটু করে দূরত্ব তৈরি করে আমি চাই বা না চাই একমাত্র মৃত্যুই প্রতিদিন একটু একটু…

Read More
গদ্য প্রবন্ধ 

আবার গুণকীর্তনের পালা : কোয়ালিটির প্রায়োরিটি ।। কলিম খান (প্রথম পর্ব)

‘নাম’ (কোড্) মাহাত্ম্য বর্ণণ: ‘ঋগবেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, চতুর্থত অথর্ববেদ, পঞ্চমত ইতিহাস পুরাণ, ব্যাকরণ, শ্রাদ্ধতত্ত্ব, গণিতবিদ্যা, দৈব-উৎপাত বিষয়ক বিদ্যা, কালবিদ্য, বাক্যোবাক্য, নীতিশাস্ত্র, নিরুক্ত, ব্রহ্মবিদ্যা, ভূতবিদ্যা, ক্ষত্রবিদ্যা, নক্ষত্রবিদ্যা, সর্প ও দেবজন বিদ্যা… এসবই নাম। নামের উপাসনা কর। যিনি নামকে ব্রহ্মরূপে উপাসনা করেন- নামের গতি যতদূর, ততদূর তিনি ইচ্ছানুযায়ী যাইতে পারেন।’ (ছান্দ্যোগ্য উপনিষদ ৫২০: ৪,৫) ‘…গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা।’ -(সুকুমার রায়)   সৈয়দ মুজতবা আলী আলি একবার কয়েক বছরের জন্য আরব দেশে গিয়েছিলেন, অধ্যাপকের চাকরি নিয়ে। থাকতেন সেখানকার একটি শহরে, এক আরবদেশীয় ভৃত্য রহমান-এর তত্ত্বাবধানে। আলিসাহেবের ভাষ্য অনুসারে, রহমান তাঁর হয়ে ‘ফ্রম সুমেন্ডিং টুখুনখারাবি’ অর্থাৎ ‘জুতো…

Read More
কবিতা 

রাশা নোয়েলের পাঁচটি কবিতা

১. সামাজিক মেলামেশা এইঃ সর্বৈব মানুষকে নিয়ে কবিতা লেখা হয়ে গেছে অসংখ্য, অগুনতি কবি। রাফ বৈচিত্র্যময়, কলমের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভে কবিতার সুচতুর দাবাড়ু হবার আগে একজন কবি-র শব্দের পর শব্দের গ্রুনফেল্ড ডিফেন্স বিস্মিত করে নিতান্ত পৃথিবীকে৷ চৌষট্টি ঘর সাজিয়ে পরখ করে দেখা যেতে পারে তার মানবীয় নমুনা৷ এদের মধ্যে প্রকৃতি ব্যতীত আর কোনো ব্যতিক্রমী কিছু চিন্তার সন্নিবেশ নেই। একজন মানুষ নেক থাকতে থাকতে শয়তান হয়ে উঠতে পারে একজন কবি শয়তান বেল্লিক থেকে দ্রুত হয়ে যায় কবিতার সুচতুর দাবাড়ু। এই আমূল পরিবর্তন শোভা বর্ধন করে প্রকৃতির। শেষতক সামাজিক মেলামেশার অভ্যাসটা আমৃত্যু সরব…

Read More
আলাপচারিতা বাদ-প্রতিবাদ বিশ্বসাহিত্য 

ওসমান সেমবেনের সাথে বনি গ্রিয়ারের আলাপ ।।ভাষান্তর-জয়ন্ত বিশ্বাস

ওসমান সেমবেন (১৯২৩-২০০৭) আমাদের কাছে আফ্রিকার পরিচয় ‘অন্ধকার মহাদেশ’ নামে। বিশ্বায়নের এই যুগে এসে আসলে এই পরিচয় খুব একপেশে, সরলরৈখিক মনে হয়। নিজস্ব সংস্কৃতি-ঐতিহ্য-সভ্যতার এক লালনভূমি হিসাবে আফ্রিকা এখন নিজ পরিচয়েই আলোকিত। আর পৃথিবীব্যাপী এই আলোটিকে সেলুলয়েডে জড়িয়ে ছড়িয়ে দেওয়া মানুষটির নাম ওসমান সেমবেন (Ousmane Sembene)। তাঁকে সারা দুনিয়ার মানুষ চেনে ‘আফ্রিকান চলচ্চিত্রের জনক’ নামে। কথাটা শুধু অক্ষরিকভাবে নয়, মর্মে মর্মে সত্যি। একই সাথে লাস্যময়ী ও রহস্যময়ী এই আফ্রিকার নিজস্ব জীবনদর্শন অদ্যবধি রূপালী পর্দায় তাঁর মত সুচারুভাবে কেউই তুলে আনতে পারেন নি। সেমবেন জন্ম নেন ১৯২৩ সালে; সেনেগাল এর কাসাম্যান্স…

Read More
গদ্য বিশ্বসাহিত্য 

”ক্যাথে” – স্টিভেন মিলোসার – পর্ব ০১।। অনুবাদ- মাইশা তাবাসসুম

স্টিভেন মিলোসার। নিউইয়র্কে জন্ম গ্রহণ করেন। পেশায় ছিলেন শিক্ষক । একাধারে ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার। তার গল্প অবলম্বনে সিনেমাও বানানো হয়েছে। তার লেখা মূলত কল্পনাপ্রবণ। ‘এডউয়িন হাউজ’ নামক একটি বিখ্যাত উপন্যাসের জন্য তিনি পুলিটজার পুরস্কার পেয়েছেন। যান্ত্রিক পাখি : ইম্পেরিয়াল প্যালেসের রাজসভায়  বারোটি গান গাওয়ার পাখি আছে, যাদের সমস্ত শরীর স্বর্ণ , কন্ঠস্বর রৌপ্য এবং চোখ স্বচ্ছ পান্না আর সবুজ জেড পাথর দিয়ে তৈরি । পাখিগুলো যে গাছে থাকে সেটি আসল নয়, তামার তৈরি। আর গাছের কান্ড ও শাখা-প্রশাখাগুলো অস্বচ্ছ সবুজ জেড পাথরে নির্মিত । এর সবটুকুই আবার প্রকৃত গাছ,…

Read More
পর্যালোচনা বিশ্বসাহিত্য 

এজরা পাউন্ড এর জীবন ও কর্ম ।। ক্লাইভ উইলমার, অনুবাদ- জয়ন্ত বিশ্বাস

পাউন্ডের জন্ম ইডাহো (Idaho)-র হেইলি (Hailey)-তে হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষাজীবন কাটে মূলত পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania)-য়। স্বল্পায়ু শিক্ষাজীবনের পাট চুকিয়ে ১৯০৮ সালেই পাউন্ড ইউরোপে পাড়ি জমান। কয়েক মাস ভেনিসে কাটাবার পরে তিনি শেষ পর্যন্ত লন্ডন-এ থিতু হন। এখানেই পাউন্ডের সাথে তাঁর আশৈশব নায়ক ডাব্লিউ বি ইয়েটস (W.B. Yeats)-এর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ১৯০৮ থেকে ১৯১১ সালের মধ্যে তাঁর ছয়টি কাব্যসমগ্র প্রকাশিত হয়। এগুলোর অধিকাংশেই Provençal বা ফ্রান্সের প্রঁভাস প্রদেশের লোককথা এবং পূর্ববর্তী ইতালিয়ান কবিতার প্রভাব, তথা কবির অনুরাগ ফুটে উঠেছিল। তাঁর রচনারীতি আরও শানিত হয় ব্রাউনিং (Browning) এর মধ্যযুগীয় ধাঁচ এবং…

Read More
কবিতা 

বন ভারাক্রান্ত মন ।। আদিত্য আনাম

বন ভারাক্রান্ত মন: ০১ মনের ভিতরে আছে এক বন। সেই বনের ভিতরে আছে কিছু বিপদগ্রস্ত গাছপালা। আছে বিমর্ষ বাঘ ও হরিণের সোনালি চিৎকার। সেখানে শিকারি হাঁটে; হাঁটে করুণ সরল শিকার। ফুটে আছে শতশত রঙিন, মায়াবী, গোলাপি, ব্যথাতুর ফুল। কতকত রকমারি ফল। পাকে ,ভয়ে ভয়ে নিস্তেজ হয়ে যায় অবহেলায়। সেখানে বাস করা আমি এক অশ্রুবিদ্ধ কবি, হেঁটে আসি ভাবনার গোধূলি বেয়ে। অথচ আমার কোনো একান্ত গাছ নেই। ব্যক্তিগত পাখি নেই, ফুল নেই; নেই কোনো পালকমুগ্ধ ওড়াওড়ি কেবল ক্লান্ত হাওয়া, তারসাথে ভিতর ও নিজের ভিতর ব্যর্থ আসাযাওয়া।   বন ভারাক্রান্ত মন: ০২…

Read More
গদ্য প্রবন্ধ বিশ্বসাহিত্য 

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘নিঃসঙ্গতার শত বছর’: প্রসঙ্গ যাদুবাস্তবতাবাদ – বি. জে. গীতা ।। ভাষান্তর- জয়ন্ত বিশ্বাস

সারাংশ : ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি  সময়ে লাতিন আমেরিকার কলম্বিয়া নামক দেশটি অন্তত দুই লক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত হত্যাকান্ডের সাক্ষী হয়। এই মর্মন্তুদ ঘটনার সূত্র ধরেই ‘নিঃসঙ্গতার শত বছর’ উপন্যাসে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ যুদ্ধ, যন্ত্রণা আর মৃত্যুর আখ্যান তুলে এনেছেন যাদুবাস্তবতাবাদের নিরিখে। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে আনার পিছনে তাঁর সবচেয়ে শক্ত যুক্তি হতে পারে- লাতিন আমেরিকার রাজনীতির অন্তঃসারশুন্যতা, প্রত্যাখ্যান আর বিয়োগাত্মকতার আবর্তনে আবদ্ধ যে প্রকৃতি, সেটিকে পাঠক মানসে একটি মূর্ত রুপ দেওয়া। মার্কেজ বাস্তবতার সাথে কল্পনার দ্যুতির অনবদ্য মিশ্রণ ঘটিয়েছেন যাতে পাঠক তাঁর একান্ত ‘কলম্বিয়া’ নামক ভূখণ্ডটির সাথে…

Read More