গদ্য পর্যালোচনা 

ধ্বনির ভারহীন কথকতার এক নিরুপম নকশিকাঁথা ও খানিক সক্রিয়তাবাদ ।। গৌতম চৌধুরী ।। পর্ব ০১

১. আমি চাই কথাগুলোকে পায়ের ওপর দাঁড় করাতে আমি চাই যেন চোখ ফোটে প্রত্যেকটি ছায়ার। স্থির ছবিকে আমি চাই হাঁটাতে। কবি হিসাবে তখন সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের যথেষ্ট নামডাক। কিন্তু বন্ধু দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ফরমায়েশ হইল গদ্যের জন্য কলম ধরিবার। সেই ‘উস্কানি’তে সুভাষ কিশোরপাঠ্য রংমশাল পত্রিকার জন্য কিছু গদ্য লিখিতে বাধ্য হন। পরে, সেই রচনাগুলি লইয়া প্রকাশিত হয় সুভাষের পহেলা গদ্যবহি আমার বাংলা (১৯৫১)। সেই বহিটি হইতে কয়েকটি টুকরা পড়িয়া লইয়া আমাদের এই ছোট্ট সফরটি শুরু করা যাক। ১. সুসং শহরের গা দিয়ে গেছে সোমেশ্বরী নদী। শীতকালে দেখতে ভারি শান্তশিষ্ট – কোথাও কোথাও…

Read More
গদ্য গল্প 

পান্ডুলিপি থেকে পাঁচটি গারো লোকগল্প।। ম্যাগডিলিনা মৃ

 বুলবুলি একবার এক বুলবুলি পাখি পাতাল ভ্রমণে গিয়েছিল। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে ফিরে এসে খুব ক্ষুধা পেয়েছিলো বুলবুলিটার। খাবার খুঁজতে খুঁজতে এক বুনো কলাবাগানের খোঁজ পেয়ে গেল সে। সেখানে প্রায় প্রতিটি গাছে পাকা কলা দেখে লোভ সামলাতে পারলো না বুলবুলিটা। প্রচুর পাকা কলা খেয়ে মনের আনন্দে আকাশে উড়তে লাগলো সে। উড়তে উড়তে হঠাৎ করেই বুলবুলির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। প্রচুর কলা খাওয়ার ফলে আমাশয় শুরু হয় বুলবুলির। পেট ব্যথা ও আমাশয়ের কারণে যত্রতত্র মলত্যাগ করতে শুরু করে । বলা হয়ে থাকে বুলবুলির মল থেকেই কলাগাছের বিস্তার পাহাড়, উপত্যকাসহ পৃথিবীর…

Read More
কবিতা 

ফরহাদ নাইয়ার ০৫টি কবিতা

০১ আমার মাথা থেকে উড়ে গেছে একটি ফরিং তাকে আটকাতে গিয়ে চারদিক ঘাস হয়ে আছে সেরকম ঘাসের পিঠে শুয়ে ভাবছি গরুর কথা কে কার জীবন নিয়ে যায়… বহুকাল বেঁচে থেকে আমিতো একটি মশাও মারতে পারিনি অথচ হুলের ভেতর দিয়ে এতদুর মরণ আসে আমি তাকে ফেরাতে পারিনা হাত ধরে বাড়ি নিয়ে যাই … ০২ হলোনা কিছুই বলে হয়েছে যা তাকি বাতাসের চেয়েও হালকা? আমার মনের থেকে ভারী কোন কিছু টেনে তুলিনি আজো।এর থেকেও হৃদয় পড়ে গেছে চোখের গভীরে, আজ আর টেনে তোলা যাচ্ছেনা জল। তুমি বরং এই শরীর নিয়ে যাও সূর্য…

Read More
কবিতা 

নিখিল নওশাদের ৫টি কবিতা

একখান কাঁঠালচুরি গ্রাম এ রাষ্ট্র আমার। আদিবৃক্ষের দাগ লাগা বুকে এখনো সিঁধেলচোর থ্রিল, ‘কান্ধার’ বিল থেকে ছুটে আসে তাম্বুলখানা; কৈশোরের কোন্ কোণে এখনো প্রেমের ছবি, কাব্য-জসীম। এদেহ জোনাকসম জ্বলে, পুরনো আড়ার তলে নানীদের কঙ্কাল নেচে নেচে ঘুমিয়ে জাগায় সেই সুর… আবেশে এসে শেষে বিপরীত বাংকারে শিশির-শরীর ধরে জমে যায় সুনিপুণ ট্যুর, বেহেস্তি ঘাম! যে কাম নিশি তোলে ধানের আওয়াজ বাজে শেষরাতে মিটিমিটি শিখা দেয় বধূর বিষম ঢেউ-দিল্। প্রতিটি মধ্যরাতে প্রিয়জন কেঁদে ওঠে বিদেহী বাতায় বসে বিল, ‘কান্ধার বিল’… যে গাছে বাদুড় ওড়ে পৃথিবীর ফলাফল সেই দিকে হেলে গেলে ছয় পায়ে…

Read More
কবিতা 

রক্তিম রাজিবের ৫টি বয়ান

দ্যাখ, কেবল তাকিয়ে থাকলেই কি হয় জ্ঞানজ্ঞানভাব নিয়ে আলোর বিস্তার করা যায় না। বিষয়টা নীল কিংবা পাংশু করা মুখ নিয়ে কারো দালানে প্রবেশে অগ্রাধিকার পাবার মত। পাওয়া থেকে যেমন আকাঙ্খার শুরু তেমনি পাওয়ার বলতে দুনিয়ায় হেডমদারের অঙ্গবিশেষ। যদিও বিশেষ বিশেষ আলোচনায় পরিত্যক্ত কয়েদিরা মুক্তাকাশের দাবী করতেই পারে। সেক্ষেত্রে বিল পাশ না হলেও আমরা এখানে মোরালভাবের গুরুত্বটাকে বুঝতে চেষ্টা করি। আর আক্ষেপন নিরূপনের দিকে না গেলে মাতাল ঝংলা থেকে খসে পড়ে যায় দুদণ্ডী বেহালা। সেটা কাত্তিক কিংবা পোষ হবার কথা না। এখন পর্যন্ত যতগুলি অক্ষরকে ছাড়া হয়েছে তাদের সকলেই ঝরে পড়েছে…

Read More
কবিতা 

মাহমুদ সিফাতের ৫টি কবিতা

  খড়া এই অনুর্বর মগজ থেকে মুছে রেখে যাও তোমার নাম   অথবা, শান দাও কোদালে; আমাকে খুঁড়ে বের করে আনো জল ভেজাও প্রেমে ওড়াও প্রেমের বেঢপ রঙিন ঘুড়ি।   তুমিও ভিজো, ডুবে থাকো আকণ্ঠ আমার ভেতরে ঘটুক তোমার আমৃত্যু নিমজ্জন।      এবং শরৎ আমার আয়নায় ভেসেছে শরৎ, লেগেছে দূরবিস্তৃত নীল তবু সাদা মেঘ ভেসে ভেসে আসে অযাচিত আলাপন ঝড়ের মতো ক্ষুধায় ভেঙে পড়ছে উদর মিথ্যে ছাড়া খাদ্য বলে কিছুই নেই   ফোটেনি ফুল বাগানে আমার আকাশে ওঠেনি চাঁদ ঝিঙেফুলের মাচা ভেঙে কে গড়েছে প্রাসাদ   স্কেচবুকে মারা যায়…

Read More
কবিতা 

বায়েজিদ বোস্তামীর ৫টি কবিতা

ঘোড়ারে আমার নিশিতে পায় নগরীর চারিদিকে পরিখা নাই দেওয়ালের সুরক্ষা দিতে ফটক ভেঙে শত্রু ঢোকে না কোনও আমিই শত্রু তাঁবুর দিকে ছুটে যাই বেকুব ঘোড়ারে আমার নিশিতে পায় এমনকি দিনেদুপুরেও ওহে, বেকুব ঘোড়াটি আমার নগর দেওয়ালের ওপারে কী আছে এমন? কী আছে শত্রু তাঁবুতে? কী সুস্বাদু ঘাস-ছোলা-নুন?   আমি যে মরি না তাই আমার মরে যাওয়া দরকার অথচ মরিবার মুরোদটি নাই এহেন দশায়, আমারে, বুচ্ছেন বিবিধ মশকারি নিয়া বেঁচে থাকা লাগে জীবনে ঘটে যাওয়া, ঘটমান ও ঘটিতব্য- কান্না মশকারি কাম মশকারি প্রেম মশকারি আমি যে মরি না তাই এই মশকারি…

Read More
কবিতা 

সোহরাব ইফরানের ৫টি কবিতা

  ঘোড়াটি শুধু আড়াই গর্জায় মৃত বলে কোন ছদ্মনাম নেই দাবার ঘরে বসা যায় এমন সব পুরুষ—ঘোড়া—কিস্তি অর্বাচীন হতে ভালবাসে তোমার আঙুলের পাশে এ মেদুর সভ্যতা—দাবাঘরে কোন রাণী থাকে না আঙুল থেকে নেমে আসে যুদ্ধগুলো সরে পড়তে হয় দাঁড়াতে হয় সরে পড়তে হয় দাঁড়াতে হয় রক্ত নেই ধোঁয়া নেই শব্দ নেই সাদাকালো একটি রণক্ষেত্র   বৃক্ষদের আত্মহত্যা প্রবণতা নিয়ে ডাকনামে ডাকো অথচ শুনতে পাই না—বহুদিন বধির যেন এই পলি; ঢেউগুলো এখানে এসে শুকিয়ে যায়—প্রবাহ থেমে গেলে কেউ আর দেখে না—শুধু হেঁটে আসে পিঁপড়ে আর পিঁপড়ে; বাঁক বদল করতে করতে নরসুন্ধা গিলে…

Read More
কবিতা 

চুইংগাম বিষয়ক কবিতা || আল নোমান

০১ তেলের বোতলে উঁকি দিতেই মাথাটা বোতলের মধ্যে পরে গ্যালো। বোতলে সোনামুখি সুঁই ছিল। আমার চোখে গেথে আছে। ছিপিটা দিয়ে গলা আটকে দাঁড়িয়ে আছি। ০২ দুহাতে পুঁইডাটা। আমি পুঁইলতাটার খুব কাছে দাঁড়িয়েছি। ভয় লাগছে। অযত্নের পরেও লতাটা বেড়ে উঠেছিল। হিংস্র কুকুরের মত ছিরে এনেছি লতা-পাতা।আমি কি পুঁইলতাটার কাছে আরো কিছুক্ষণ বসে থাকতে পারি! ০৩ কবুতরের হাঁটে এক পায়ের ঘোড়া দেখে কান থেকে একহালি লালপিঁপড়ে বেরিয়ে এলো। সব কবুতর সব মানুষ কিছুক্ষণ আমাকে দেখছিল। পাশের পুকুরে ভেসে ছিল কিছু ডাবের খোসা, আর দেবীর দুটি হাত। আমি আমার চোখ দুটো খুলে লুঙ্গির…

Read More
গদ্য গল্প 

শিবরাজ চৌধুরীর দুটি গল্প

কুড়ায়ে পাওয়া কিচ্ছা লেখালেখি হইল না বইলা শেষমেশ চুড়ির ব্যবসা ধরলাম। কয়েক ডজন চুড়ি বেচা হয় প্রতিদিন, উত্সবে পার্বণে বেচি হাজার হাজার; বান্ধা খদ্দেরও আছে কয়জন। সব মিলায়ে খুব একটা খারাপ নাই আমি। বেশ্যা থাইকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা- মোটামুটি সব মহলের হাতই আমি ধরতে পারি- এরাও আমারে বিশ্বস্ত জাইনা হাত দেয়- নরম কোমল কেতাদুরস্ত হাত। এদের কারো হাত ফর্সা, কারো রোদপোড়া, কারো ঘন বাদামী। হাঁটু ভাঁজ কইরা বসে তারা, মাংসপট্টির কুকুরের মত একাগ্রতা ও সময় নিয়া চুড়ি দেখে। কাঁচের চুড়ি, কাঠের আর প্লাস্টিকের চুড়ি, এমনকি লোহার চুড়িও আমি রাখি- এদের ক্যান…

Read More