
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যখন রক্ত দিয়েই চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছি। চারদিকে এতো অন্যায়, অবিচার এতো মূঢ়তা এবং কাপুরুষতা ওঁৎ পেতে আছে যে এ ধরনের পরিবেশে নিতান্ত সহজে বোঝা যায় এমন সহজ কথাও চেঁচিয়ে না বললে কেউ কানে তোলে না।
—আহমদ ছফা (১৯৭২)
পরলোকগত পুরুষ পুরুষানুক্রমের নামযশ জীবিতের মগজে দুঃস্বপ্নের নাহান চাপিয়া থাকে।
—কার্ল মার্কস (১৮৫২)
২০২৪ সালের মধ্যভাগ নাগাদ পরাধীনতা পারের বাংলাদেশে যাহা ঘটিয়াছে তাহা সকলেই না হোক অনেকেই একবাক্যে স্বীকার করিবেন ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা। স্বীকার করিতে হয়, নতুন নিয়মের প্রতিষ্ঠা দিতে না পারিলেও পুরাতন নিয়মের ফাটলটা ভালমতই দেখাইয়া দিয়াছে এই বছরের ঘটনাধারা। ব্যাপ্তি, তীব্রতা আর তাৎপর্যের বিচারে পঞ্চান্ন বছর আগে সমাপ্ত স্বাধীনতার যুদ্ধ ছাড়া ইহার সহিত তুলনা দিবার মতন বিশেষ আর ঘটনা নাই।
১৯৭১ সালে প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপিত হইয়াছিল ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে। অথচ আমাদের প্রজাতন্ত্র পঞ্চান্ন বছর পর্যন্ত এই তিন অঙ্গীকারের একটাও পূরণ করিতে পারে নাই। এমন দিনও ছিল সেই অঙ্গীকার কাহিনী স্মরণ করিলে রাজরোষে পড়িতে হইত।
দেশ স্বাধীন হইবার পর বুদ্ধিজীবীরা প্রায় প্রতিদিন বলিতেন, অসম্ভব রাষ্ট্র পাকিস্তানের ভাঙন অনিবার্য ছিল। দুর্ভাগ্যের মধ্যে, শুদ্ধ দুই কি তিনটি প্রশ্নের জবাব দিতে অপারগ ছিলেন তাঁহারা। যেমন মাত্র দুই পুরুষ আগে এই জনগোষ্ঠীর প্রায় সকলেই কেন ‘অসম্ভব’ রাষ্ট্র পাকিস্তান সম্ভব করার জন্য প্রাণপাত করিতে কসুর করেন নাই? অধিক কি, এই অনিবার্য ঘটনাটির অবসান ঘটাইতে কেন পুরুষান্তরের, কেন দুই দশকের অধিক অপেক্ষার দরকার হইল? এই প্রশ্নের কোন জবাব তাঁহাদের কুক্ষিগত ছিল না।
আরো জানিতে আবশ্যক হয়, রক্ত দিয়া এই স্বাধীনতা লাভ করিবার—এই যুদ্ধের—দিনে কেন বিদেশি সাহায্য ছাড়া চলিল না? পরিশেষে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ক্ষণ যে ছবিতে দুনিয়া হইল তাহাতে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়াইল? এই পরনির্ভরশীলতার পরিণতি আর যাহাই হোক গণতন্ত্র হয় নাই।
এখানেই সত্যের একটি ইশারা দেখা যাইতেছিল: ১৯৭১ সালের রক্তস্রোত একক, সার্বভৌম, স্বাধীন দেশের জন্ম দিল কিন্তু সমাজ-বিপ্লবের ঢাক পিটাইতে পারিল না। সম্ভবত এই কারণেই অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান কিংবা সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ প্রভৃতি বুদ্ধিমান ছাড়া ১৯৭১ সালের মহাযুদ্ধকে কেহ আর ‘বিপ্লব’ বলিয়া বিড়ম্বিত হন নাই। কেহ কেহ বা ইহাকে বড়জোর ‘বেহাত বিপ্লব’ বলিয়া সান্ত্বনা লাভ করিবার কোশেস করিয়াছিলেন।
১৯৭১ সাল কেন বিপ্লবের বছর বলিয়া গণ্য হয় নাই? সকলেই জানেন ১৯৭১ সালে যে ভূখণ্ড ‘একক, সার্বভৌম ও স্বাধীন’ প্রজাতন্ত্র ‘বাংলা দেশ’ নামে দাঁড়ায় সে ভূখণ্ডের সীমা-সরহদ্দ সাব্যস্ত হইয়াছিল ১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক রাজের পলাতকা ছায়ায়। সকলে মানিবেন কিনা জানি না, কিন্তু অনেকেই নিশ্চিত মানিবেন যে ধরনের সমাজ-কাঠামোর দৌলতে ১৯৪৭ সালের বাংলাদেশ অতি উৎসাহের সহিত ‘পাকিস্তান’ নাম অঙ্গীকার করিয়াছিল সেই কাঠামোর অপূর্ব পরিবর্তন ১৯৭১ সালেও ঘটে নাই। পাকিস্তানের মতন স্বাধীন বাংলাদেশও ব্রিটিশ শাসনের উত্তরাধিকারস্বরূপ পাওয়া কমনওয়েলথ সাম্রাজ্যের প্রজা পরিচয়টা পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করে নাই। পরিবর্তনের মধ্যে সে শুদ্ধ মার্কিন সাম্রাজ্যের অধীনতা বরণ করিয়াছে। কলোনি হইয়াছে পোস্টকলোনি।
এদিকে ২০২৪ সাল এখনো আমাদের স্মৃতিতে অম্লান, দেদীপ্যমান তাহার আলো। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরাও সত্যই বুদ্ধিমান। এই বছরের ঘটনাবলিকে তাঁহারা কদাচ বিপ্লবের অভিধানে বসিবার জায়গা দেন নাই। ঘটনাস্থলে কেহ বা বিপ্লব কিংবা ইহার প্রতিশব্দ ‘ইনকিলাব’ ধ্বনি দিয়াছিলেন, এ কথা অসত্য নয় কিন্তু প্রবর্তিত ইতিহাস এই ব্যবহার অনুমোদন করে নাই। অগত্যা প্রমাণিত হইয়াছে, বিপ্লবের ফুল বাতাসেই ভাল ফোটে।
তারপরও স্বীকার করিতে হইবে ২০২৪ সাল শতভাগ বিফলে যায় নাই। গণজাগরণের গুণে শেষমেশ ধরা পড়িয়াছে, ১৯৭১ সম্পর্কে এতদিন যে বয়ান প্রচার করা হইতেছিল তাহা ছিল একান্ত একরৈখিক অর্থাৎ অর্ধসত্য। এক্ষণে আমরা বুঝিতে পারিতেছি যে আকাক্সক্ষায় ১৯৪৭ সালে পূর্ববঙ্গের জনসাধারণ অসম্ভব পাকিস্তান সম্ভব করিয়াছিল, সেই অভিন্ন আকাঙক্ষাই ১৯৭১ সালে তাঁহাদের বাংলাদেশ স্বাধীন করিবার জন্য প্রাণদানে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল।
বাংলাদেশের ঐক্যবদ্ধ ভোটদাতাগণ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবের হাতে সর্বময় ক্ষমতা তুলিয়া দিয়াছিলেন। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে একই ঘটনা ঘটিয়াছিল, মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর হাতে সর্বময় ক্ষমতা ন্যস্ত হইয়াছিল। সর্বময় ক্ষমতা সর্বদাই বিপজ্জনক। পাকিস্তানের পরিণতি তাহাই আরেকবার প্রমাণ করিল। পুরানা পাকিস্তানের ভাঙন প্রমাণ করিল, কামানের জোরে দেশ দখল করা যায়, শাসন করা যায় না। বাংলাদেশের জনসাধারণ যেমন উৎসাহের সহিত পাকিস্তান কায়েম করিয়াছিল তাহার অধিক উৎসাহের সহিত আবার বাংলাদেশেরও প্রতিষ্ঠা দিল। শুদ্ধ পাকিস্তানের আলেমরা নহেন, বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরাও এই সত্য আমল করিতে পারেন নাই। যাঁহারা একদিন পাকিস্তানের রাজক্ষমতা ব্রিটিশ শাসনের উত্তরাধিকারস্বরূপ হাতে পাইয়াছিলেন তাঁহারা কিছুতেই সে ক্ষমতা হাতছাড়া করিতে রাজি হইতেছিলেন না। তাঁহারা বারবার রক্তস্রোত বহাইয়া দিলেন। একবার বহিয়া গেলে রাজকাহিনী আর রাজকাহিনী মাত্র থাকে না। সে কাহিনী নীতিশাস্ত্রের আওতায় চলিয়া আসে। এই নীতির বিধান লঙ্ঘন করাকেই কি বলে ইতিহাসের ট্রাজেডি?
বাংলাদেশের ঘটনাবলি আরো ত্বরায় ঘটিয়াছে। স্বাধীনতার যুদ্ধে অন্য দেশের সাহায্য লইলে যে পরিণতি ঘটিবার কথা স্বাধীনতা লাভের প্রথম বছরেই তাহার সূচনা ঘটিয়াছে, আর চারিটি বছর পার না হইতেই আরো বড় যে ঘটনা ঘটিয়াছিল তাহা কাহাকেও বিস্মিত করে নাই। ঘটনার এই দ্রুততা নিশ্চিত করিয়াছিল খোদ ১৯৭১ সালেরই অভিজ্ঞতা, এ সত্যে সন্দেহ নাই।
পরের পঞ্চাশ বছরেও বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করিতে পারে নাই। যে উন্নতির দোহাই সে দিয়াছিল তাহা বৈষম্যের উত্তাপে কর্পূরের মতন উড়িয়া গিয়াছে। গণতন্ত্রের নামাবলি গায়ে ঝুলাইয়া সে ফ্যাসিতন্ত্র কায়েম করিয়াছিল। বড় বড় স্বাধীনতার বুলি আওড়াইয়া সে নতুন পরাধীনতার শিকল হাতে ও পায়ে জড়াইয়াছে। যে ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সে একদা তাহার সাধের পাকিস্তান ভাঙিয়া দিয়াছিল সেই ভাষাকে আজ সে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার আবডালে বিসর্জন দিতেছে। ১৯৪৭ সালে যে ট্রাজেডির জন্ম ১৯৭১ সালের পর ক্রমেই তাহা প্রহসনে পরিণতি মানিয়াছে।
এই পটভূমিতেই ২০২৪ সালের রক্তস্রোত ও গণ অভ্যুত্থান স্থাপিত হইয়াছিল। তাহা হইলে একই করুণ পরিণতি এড়াইতে এই অভ্যুত্থানের কর্তব্য কি দাঁড়াইল? ১৯৪৭ সালে যে আকাক্সক্ষা লইয়া পূর্ব বাংলার জনসাধারণ পাকিস্তান কায়েম করিয়াছিল তাহার সহিত পাঞ্জাব ও সেই পূর্ব বাংলারই একটি শ্রেণি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল। তাই সেদিনের পূর্ব বাংলা আজিকার বাংলাদেশ বনিয়াছে। ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতার সহিত বেশিদিন না যাইতেই বিদেশের যোগসাজসে দেশেরই আরেকটি শ্রেণি বেইমানি করিল। অতএব ২০২৪ ঘটিয়াছে। সন্দেহ নাই এই ঘটনা অনিবার্য ছিল।

পরের পঞ্চাশ বছরেও বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করিতে পারে নাই। যে উন্নতির দোহাই সে দিয়াছিল তাহা বৈষম্যের উত্তাপে কর্পূরের মতন উড়িয়া গিয়াছে। গণতন্ত্রের নামাবলি গায়ে ঝুলাইয়া সে ফ্যাসিতন্ত্র কায়েম করিয়াছিল। বড় বড় স্বাধীনতার বুলি আওড়াইয়া সে নতুন পরাধীনতার শিকল হাতে ও পায়ে জড়াইয়াছে। যে ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সে একদা তাহার সাধের পাকিস্তান ভাঙিয়া দিয়াছিল সেই ভাষাকে আজ সে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার আবডালে বিসর্জন দিতেছে। ১৯৪৭ সালে যে ট্রাজেডির জন্ম ১৯৭১ সালের পর ক্রমেই তাহা প্রহসনে পরিণতি মানিয়াছে।

২০২৪ সালের রক্তস্রোত প্রমাণ করিয়াছে মানুষ নিছক প্রাকৃতিক প্রাণী নয়। মানুষের মন ইতিহাসের সৃষ্টি, তাহার অগণন অভিজ্ঞতার পরিণতি। এই অভিজ্ঞতা শুদ্ধ ২০২৪ সালে সীমিত ছিল ভাবিলে অনেক বড় ভুলের পুনরাবর্তন ঘটিবে। মনে রাখিতে হইবে, শুদ্ধ ১৯৭১ সালের নয়, ১৯৪৭ সালের, এমনকি ১৯০৫ সালের বাসনা হইতেও ২০২৪ সালের গণতন্ত্র প্রাণ সংগ্রহ করিয়াছে। মজার ব্যাপার, আমরা এই সত্য সবসময় জানি না। শুদ্ধ সংকটের মুহূর্তে এই সত্য ঝিলিক দিয়া ওঠে। মহাত্মা ফ্রয়েডের আবিষ্কার অনুসারে এই ঝিলিককে ‘অজ্ঞান’ বলা হইয়া থাকে।
ইতিহাসে এমন সময়ও আসে যখন সংস্কৃতির সংগঠন রাজনীতির আকার ধারণ করে: সকল সার্থক বিপ্লবের আগে সংস্কৃতির সংগঠন সরব হয়, বৈপ্লবিক চিন্তার প্রবাহ কলকল ধ্বনি উচ্চারণ করিতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ১৭৮৯ সালের ফরাশি বিপ্লব প্রাণ পাইয়াছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর ‘জ্ঞানের আলো’ আন্দোলন হইতে। এই আন্দোলন সারা এয়ুরোপ মহাদেশে একটা সার্বজনীন বিশ্ববিবেক জাগাইয়াছিল, সংগঠিত করিয়াছিল একটা ‘বুর্জোয়া আন্তর্জাতিক’। মহাদেশ ব্যাপিয়া বিস্তীর্ণ দুর্গতি ও বঞ্চনার অবসান আর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বুর্জোয়া দাবি সর্বসাধারণের মধ্যে ছড়াইয়া দেওয়ার কাজ ছিল ‘জ্ঞানের আলো’ নামধারী বুদ্ধিজীবীদের কীর্তি। একই উদাহরণের পুনরাবর্তন দুনিয়ার দেশে দেশে, রুশ, তুরস্ক, চীন, কুবা কি ভিয়েতনাম, সব দেশেই ঘটিয়াছে। এখন প্রশ্ন হাজির: দুই হাজার চব্বিশের পর আর কি আছে?
২০২৪ সালের গণজাগরণ বাংলাদেশে জবরদস্তি চাপিয়া থাকা একটা সরকার হটাইয়া দিয়াছিল কিন্তু তাহার স্থলে বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করিতে পারে নাই। অগণ্য দেওয়াল লিখন হইতেও অনুমান করা যায়, এই গণজাগরণ বিপ্লবের মতন উচ্চাভিলাষ পোষণ করে নাই। তাহার সজ্ঞান ধ্বনি ছিল, ‘স্বাধীনতা আনিয়াছি, সংস্কারও আনিব।’ দুঃখের মধ্যে কিছু কম দুই বছর স্থিত অন্তর্বর্তী সরকারও কোন স্থায়ী সংস্কার প্রবর্তনের চেষ্টা করেন নাই। দেড় বছরের মাথায় সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন করাই সম্ভবত অন্তর্বর্তী সরকারের একমাত্র কৃতিত্ব বলিয়া কীর্তিত হইবে। মাঝখানে বাধা থাকিলে এক বিন্দু হইতে আর বিন্দু যাইবার পথ একটি বক্ররেখা বৈকি! বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্তর্বর্তী সরকার একটা বক্ররেখার অধিক নয়।
শেষ পর্যন্ত কি হইবে বলি কি করিয়া! তবে এই পর্যন্ত যাহা হইল তাহার তুলনা নাই। রাজকাহিনীতে যাহার নাম ‘জনসাধারণের সার্বভৌমত্ব’ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের জনসাধারণ তাহার পুনরাবর্তন করিয়াছে। এখন বাংলাদেশ কি আমূল বা অপূর্ব পরিবর্তনের পথে হাঁটার চেষ্টা করিবে? নিষ্ক্রিয় থাকিলে বা উল্টাদিকে চলিলে ট্রাজেডির পুনরাবর্তন কি প্রহসনের পথ এড়ান কঠিন হইবে। স্পেনদেশের কবি আন্তনিয়ো মাচাদো একদা ঠিকই লিখিয়াছিলেন: ‘পথ বলিয়া কিছু নাই, পথিক! সমুদ্রে ভাসে শুদ্ধ জাহাজের ঢেউ।’ পরিবর্তনের পথ আগে হইতেই কাটা থাকে না। অতএব মাচাদোর পদটি আরেকবার আওড়াইয়া এই নাতিদীর্ঘ বিবৃতির পরিসংহার করা যায়।
হাঁটিতে হাঁটিতে পথ কাটিতেছ তুমি
যে পথে হাঁটিয়া আসিলে
সে পথে ফিরিবে না আর
পথ বলিয়া কিছু নাই, পথিক!
সমুদ্রে ভাসে শুদ্ধ জাহাজের ঢেউ।
