কবিতা 

মদসংখ্যা- ঋত্বিকের নতুন বাড়ি ।। জুবায়ের দুখু 

ভাঙ্গেরা,  পাবনা। কাশবন, বালুচর। চল ভবা, পালাই। তিতাসের জলে গা ভাসিয়ে চল হারিয়ে যাই নাগরিকের কোলাহলের বাইরে- দূরে কোথাও। ঋত্বিক হারাতে চায়, লক্ষ্মীর কাছ থেকে অনেকদূর। বুঝলে লক্ষ্মী, টাকা থাকবে না কাজটাই থেকে যাবে। তুমি দেখে নিও। তুমি দেখে নিও। সাঁইথিয়াই টালমাটাল ঋত্বিক। হাতে বাঙলা মদের বোতল– উসকোখুসকো চুল চোখে চশমা। দুলিয়ে দুলিয়ে হাঁটছে কলকাতার অলিগলি। লাল সুতার কিংবা পাতার বিড়ি ফুকছেন। চারপাশ ধোঁয়ায় ছয়লাব। নতুন বাড়ির খোঁজে ঋত্বিক চলে গেলেন সুবর্ণরেখার পাড়ে। মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা তারার দুঃখ নিয়ে এক জীবন অতিবাহিত করেছেন। কখনো জগদ্দলের প্রেমে হয়েছেন পাগলাটে ঋত্বিক।…

Read More
কবিতা 

মদসংখ্যা- ‘ধন্য আমি ধন্য হে মাতাল তোমার জন্য হে’ ।। টুম্পা ধর

পৃথিবীর যেকোনো সৌন্দর্যকে অবাধে ছোঁয়া নিষিদ্ধ করার চিন্তা থেকেই হয়তো অমৃত সমান একটা বিশেষ পানীয়কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সমাজ সংসারে বিশেষ বিশেষ আবিষ্কারগুলোকে বেশ কড়া নিরাপত্তায় সযত্নে আগলে রাখা হয়। কারন অতিমাত্রায় যেকোনো জিনিস তার অস্তিত্ব হারায়। মানুষও তার উর্দ্ধে নয়, তাই যেকোনো বিশেষ পরিবেশে মানুষ নিজে নিজেকে আগলে রাখে, সেই সঙ্গে আরও যে সকল বস্তুকে আগলে রাখে তার মধ্যে মদ বা বিশেষ পানীয়ও অন্যতম। তাই মদকে কেন নিষিদ্ধ করা হলো, তা নিয়ে ভেবে আমার কখনো মন খারাপ হয় না। স্বচ্ছ কাচের বোতল হোক আর গ্লাস কিংবা শখের মাটির…

Read More
কবিতা 

মদসংখ্যা- শিকার ।। মুম রহমান

Every form of addiction is bad, no matter whether the narcotic be alcohol or morphine or idealism. – কার্ল গুস্তাভ জাং (১৮৭৫-১৯৬১), সুইস মনোবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক তাতি বাজারের কাছের এই বাড়িটা এখন পরিত্যক্ত। যে কোন সময় ভেঙে পড়বে। বাড়িটার মাংস নাই, কেবল হাড্ডি দেখা যায়। তবুও দুয়েক জায়গায় পুরনো জৌলুসের ছাপ লুকানো আছে। যেমন ধরা যাক ভাঙা রেলিংয়ের কারুকাজ। সেটুকুই জানিয়ে দেয় এ বাড়ি সাধারণ কিছু ছিলো না। কে জানে কার বহু সাধ আর সামর্থের সমন্বয়ে একদা বানানো হয়েছিলো এই জমিদারি মেজাজের বাড়ি। বাড়ির রঙ আর পলেস্তরার মতোই বিলুপ্ত জমিদারি…

Read More
কবিতা 

মদসংখ্যা- অতলান্ত ।। আতিকুর রহমান হিমু

‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে মেলে দিলাম গানের সুরের এই ডানা’ সন্ধ্যাটা অন্যমনস্কো ভাবে হাঁটছে রাত্রির গভীরে। শুক্লা পক্ষের পথে পথে হলুদ বাদামি পাতা ও শীতবৃক্ষের ছায়া কঙ্কাল। ভাড়া বাড়ির তেতলার ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। আমার চোখের ওপর প্যান্টারালি আকাশ। অন্ধকারে হাবুডুবু করছে বিচিত্র সব রঙ। বিষণ্ণতা ছুঁয়ে আছে পাতাও নীড়ে ফেরা পাখিদের পালক। শৈশবে প্রায় বিকেলেই আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ফেরারি পাখিদের কোলায় ফেরা দেখতাম, পাখিদের ভিন্ন রঙ ভিন্ন স্বর জানা না জানা বিচিত্র সর্বনাম। আজও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় পাখিপাড়া বেড়াতে যাই। পাখি পাড়া কি সন্ধ্যে হয়?…

Read More
কবিতা 

মদসংখ্যা- বৃষ্টি ।। সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

Art thou abroad on this stormy night on thy journey of love, my friend? The sky groans like one in despair. I have no sleep tonight. Ever and again I open my door and look out on the darkness, my friend. I can see nothing before me. I wonder where lies thy path. By what dim shore of the ink-black river, By what far edge of the frowning forest, Through what mazy depth of gloom art thou threading thy course to come to me, my friend? (Song 23, Song Offerings…

Read More
কবিতা 

তাঁতার দস্যুর দল ।। সোহরাব ইফরান

(ক) ‘কবিবর মান্য হলা যবে আপন পিতার করোটিতে মদ্যপান করি’—হিজল জোবায়ের আধুনিক/ উত্তরাধুনিক ভাষাজ্ঞান এর সাথে পরিচিত হয়েছিলাম কাগজে যার কবিতা পড়ে, তিনি হিজল, কিংবা পদার্থ নদী বল বেয়ারিং। চরাচর ব্যাপ্তির দিনে তরুন কবিদের সাথে হিজল জোবায়ের এর এভাবেই সাক্ষাৎ ঘটে। “no distance can weigh you down, you come flying, facinatel, and at last lasting for light, poor moth, you perish in the flame.” “একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে স্বচ্ছ জলে পুনরায় ডুবে গেলো- এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে বেদনায় গাঢ় রসে আপক্ক রক্তিম হলো…

Read More
কবিতা 

তনুজের সাত কবিতা

এখনও ঘাসের ছিটকিনি খুলে বসে আছো? ১ কাল একটা ফাঁকা ব্রিজের রেলিং ঘেঁষে মিনিট পনেরো দাঁড়িয়ে থাকার পর আজ আরেকটা ফাঁকা ব্রিজের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছি আমার অনুপস্থিতিতে আমি, আমি, আমি।   ২ (মীর তাকি মির-কে, তাঁর ওষ্ঠপাশে, তাঁর চরণকমলে) কী দীর্ঘ রাত হেঁটে এসে মীর, জনশূন্য হয়েছ আখেরে? এত জনশূন্য হয়েছ তাকি মির যে বিরামপন্থাকে সহনীয় ভেবে বলেছে কেউ যদি দেখ একবার, কী তীব্র সকাল পানপাত্র বাজি রেখে তুমিও বলেছ অনিমেষে, এই তো সময় হল স্বকাল, স্বকাল।   ৩ ঈশপের অপ্রকাশিত গল্প ~ ঘোষণা করা হয়েছে, পতাকা উত্তোলন ও…

Read More
কবিতা 

কৈজাশ কোয়েঝা’র একগুচ্ছ কবিতা

১. ধোঁয়ার কবাট খুললে বেরিয়ে আসে রেশমি পাখির ডাক। শোনা যায় সমুদ্রপথের শঠকারীতা- হবিলেস নিকোটিন দরজা আটকিয়ে দিলে আমরা টেবিলে বসি। গপ্পো জমাই নিঃস্ব বর্তমানের। কখনো টেবিল বাজাই শ্বাসের পাউডার মেখে। তাল কাটলে মন্থনের গোধূলী স্নানের জলশূন্যতা মনে পড়ে। তবু বসে থাকি মিসলটো জগের হাতলে মাথা রেখে। শুনি জলাতঙ্ক পরীদের বাসনার পরিপক্বতা।   ২. ওহে ভায়াগ্রা জাতক- তলদেশীয় মোজার গিট্টু কলাপী মামু, ইম্পেরিয়াল তারের জোড়ায় মাসকিন ট্যাপ পেঁচালে গতিরোধ হয় কি? ভাবনার চোলাই গলানো শক্তিধর প্রেমিক ভায়া, এক্সপ্রেশনের তাবিজে নজর ধরো বেরিয়েও যেতে পারে বাঁধের ভাত শালিক নায়াগ্রা থেমে চাদরে…

Read More
কবিতা 

সুজালো যশ এর পাঁচটি কবিতা

হরিদ্রা হরিৎ বন্ধু রাফাত’কে ফাল্গুনীর চোখে ঢুকেই দেখি ছাতিমের হৃদয় থেকে সহস্র হারমোনিকা উড়ে যাচ্ছে ক্লান্ত ফুলেরা ঘুমাচ্ছে সবুজাভ দৃশ্য জড়িয়ে তাই ভাবলাম এবার অবলোকিতেশ্বর পাখি হবো পাহাড়ি নদীর সাথে সুর মিলিয়ে বলবো দুঃখ করোনা জীবন! এ যাবত- যতবার গোলক ধাঁধায় পড়েছি ততবার ঋণী হয়েছি এই বনজ কোলাহলের কাছে।   সওদাগরি চুমোর দিনে বিষণ্ণ দো-চুওয়ানির কোলে বোয়াল সন্ধ্যা নেমে এলে তরমুজবাদ থেকে কিছু অর্গ‍্যানিক কাজুফল উড়ে যায় উপেক্ষিত নাগর দোলায় তবুও দংশিত ঘেরা রোদ পৈতৃক মেনিফেস্টে অগ্রন্থিত ঠোঁট তুলে রাখে বহুরৈখিক চোখের কণায়।   প্রতিধ্বনির প্রতিফলন ধোঁয়াসার তত্ত্ব আওড়ে কার…

Read More
কবিতা 

তানভীর হোসেনের দশটি কবিতা

  কেমন জানি লাগতেছে বিকাল নামতেছে বাগানে বাগানে তবু যাওয়াদের সবাই কি ফিরতেছে? অনেক দূরে হুদাই মেঘের তাউরাশিতে কেউ না কেউ তো ঠিক মরতেছে! আইলসা চোতের বিকালটারে তোমার ঠাণ্ডা সোডা গিলতেছে তো গিলতেছে বিড়ালগুলা বড়ই গাছের ছায়ার ভিতর আপনমনে খেলতেছে তো খেলতেছে পিচ্চি দুইটা হলুদ প্রজাপতি তাদের ঘিরে উড়তেছে, এসব দেখে আমার জানি কেমন কেমন লাগতেছে! সেনার সারির মতোন রাবার গাছে পেয়ালাগুলা ঝুলতেছে, কি জানি কে যে কোন এক ফাঁকে সেসব ফাঁকা করতেছে! আমি খালি ছবিগুলার পেছন হাঁটা ত্রাসের ভেতর কাঁপতেছি, আমি খালি অন্ধকারে ঐ ছবির ভিতর মরতেছি তাও তো…

Read More