কবিতা গদ্য মুক্ত গদ্য 

স্থানিকের চিহ্ন ।। জ্যোতি পোদ্দার

মিশ্র বৃক্ষের বনে চোখ ক্লান্ত হয় না— বরং ছলকে ছলকে বিস্ফারিত হয়ে ওঠে। হাঁটতে হাঁটতে শরীর অবসন্ন হয়ে পড়লে এমন জায়গা পেলে হাত পা মেলে দেবার জন্য শরীর নেচে ওঠে। মন আকুপাকু করে। যেন কতকাল পর সবুজ আর সবুজ আর ঘন সবুজের মায়াবী বিছানা পেতে রেখেছে আমার জন্য। গা এলিয়ে দিলেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছ নীচু হয়ে আমার পাশে বসে চুলে বিলি কেটে কেটে ঘুম পাড়িয়ে দেবে। সকালের রোদে পাতার ফাঁক ফোঁকর দিয়ে যতটুকু আলোর বিস্তার ঠিক ততটুকুই বরফির ছাঁচের মত ছায়া পড়ে নিকানো উঠান জুড়ে। ভারি সুন্দর লাগে আলো…

Read More
কবিতা গল্প 

মারমা লোকগল্প ।। খোব্রোক

একদেশে ছিলো এক দরিদ্র লোক। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। অনেক চেষ্টা তদবির করে শেষে তার একটা বাচ্চা হয়। বাচ্চাটি মানুষের ছিলো না। বাচ্চাটি ছিলো একটা খোব্রোক। দরিদ্র লোকটি সেইসময় কাজ করতো রাজার বাড়ি। একদিন রাজা লোকটিকে ডেকে তার সারা বছরের পারিশ্রমিক দিতে চাইলেন। দরিদ্র লোকটি রাজার সামনে যেতে ভয় পেলো। সে পারিশ্রমিক আনতে খোব্রোককে পাঠালো রাজার বাড়ি। রাজা খোব্রোককে দেখে বিরক্ত হয়ে বললেন, “তুমি সামান্য এক খোব্রোক, তুমি কি করে বোঝা বইবে?” খোব্রোক বললো, “আমি পারবো রাজামশায়।” খোব্রোকের কথা শুনে রাজার খুব রাগ হলো, তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “সামান্য এক খোব্রোক,…

Read More
গল্প 

মারমা লোকগল্প ।। আপ্যায়াং

পাহাড় থেকে দূরের কোন এক গ্রামে এক অলস ব্যক্তি বাস করতো। নাম ছিলো তার আপ্যায়াৎ। সারা বছরে গোসল করতো মাত্র দুর্দিন। সেটাও এমন যে, রিং পোর্ট্রে’র দিনে প্রতিবেশিরা এসে যদি পানি ছিটিয়ে দিলো তো একটা দিন গোসল হয়ে যায়। আবার কোন একদিন যদি কোনভাবে ঝর্ণার কাছে যেতে হয়তো সেখানেও আশপাশের লোকেরা জোর করে ধরে পানিতে চুবিয়ে দেয়। এই দুই ক্ষেত্রেই সে ঘরে ফিরে প্রতিবেশিদের গোষ্ঠি উদ্ধার করে গালমন্দ করতে থাকে। এমনকি বিছানা থেকে উঠ বসে ভাত খেতেও আলস্য লাগে তার। হঠাৎ একদিন তার খুব আম খেতে ইচ্ছে করলো। কিন্তু সে…

Read More
কবিতা 

হিম ঋতব্রত এর কবিতা ।। সপ্তমী দাশ

সপ্তমী দাশ – ০৭ তোমার ভেতরে আহা এত স্নিগ্ধ শান্তি, মুগ্ধতা!  এত নরম হৃদয় তোমার!    আমি ক্ষত্রিয় হয়েও— তীর ছুঁড়তে পারি না  নীরব সন্ন্যাসে চলে যাই!     সপ্তমী দাশ – ০৮ এ— কী গান গাও তুমি সপ্তমী দাশ আমাকে কোন মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাও স্বর্গসুরে ভাসিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাও কোন নরকে!    জ্বলতে জ্বলতে পুড়তে পুড়তে জেগে উঠি! এ কেমন উপহার— শাস্তি— শান্তি?  নরকের ভেতর স্বর্গ— স্বর্গের ভেতর পৃথিবী— পৃথিবীর ভেতর নরক…   এ কোন গান গাও তুমি সপ্তমী দাশ!  আমাকে কোন জন্মের দিকে নিয়ে যাও!  ক্রমেই জন্মের…

Read More
কবিতা 

মিজানুর রহমান রুবেলের কবিতা

মুহূর্ত রসুইঘরে, হঠাৎ দুধের পেয়ালা অসাবধানে উল্টে গেলে তুমি তুলে আনো- শিমুল কাঁটার ছায়ায় নতমুখে দাড়িয়ে থাকা অন্ধকারে আমার একলা অতীত, আমার আজন্ম কৃতঘ্ন স্মৃতি- কেবল আমার মায়ের শ্বেত স্তনযুগল। পিতার দেয়া রূপোর পুরোনো বালা জোড়া হাতে নিয়ে যে মা অবহেলায় একা একা গিয়েছে মরে আমার এক প্রাচুর্যের সকালে।। তোমারে মনে রাখি আমি ডানায় দুরন্ত জীবনের অন্ধ ভায়োলিন বাজিয়ে মূহুর্তের ব্যবধানে তুমি উড়তে উড়তে মেঘের সীমানা পেরিয়ে গিয়েছো অবলীলায়; চেনা দিগন্তের সরল জ্যামিতি তুমি চীড়ে দিয়েছো সহস্রবার- ধারালো নখের আঘাতে। অথচ, দেখো- কালো মেঘের মতন আদিম এক ব্যামোর অভিশাপে একদিন…

Read More
কবিতা 

এ্যালেইনা হোসেনের কবিতা

ফেইট অফ দ্যা ফ্যানাটিক প্রেমিকার মুক্তমনের সাথে ঘষা খেয়ে উঠে গেলো জীবনের ছাল   ফার্মেসী ব্যবসায়ে টান লাগা–      চোখ     মাথানত                                  ওষ্ঠ যাদুভেষজে আর                   দেয় না অঙ্গীকার   কোনো ওষুধ নেই                  মলম নেই  ব্যান্ডেজ নেই                      প্রতিকার নেই                 জীবনের ছাল নেই!   মামলা চললো       …

Read More
গদ্য গল্প 

ইনস্কেপ্যেবল মাইন্ড ।। তাইবা তুলবি

‘আমি খুন করেছিলাম’,  রবির গলা দিয়ে উষ্ণ তরল নেমে গেলো। স্বর্গে কখনো কড়া রোদ পড়ে না। মিষ্টি রোদ, মৃদু বাতাস। এখানে নরকের মতোন এতো ঝামেলা পোহাবার কোনো মানে নেই, এতো ভাবনার কোনো কারণ নেই। মাত্র সেকেন্ডে এসব ভেবে তার বন্ধু অনন্ত আলসে মুখে চোখ ফেরায়। সে এক কথায় বলতে স্বাচ্ছন্দ্যে বোধ করলো। ‘তুই এখন স্বর্গে, অতোকিছু ভাবিস না’,হাতে থাকা পাকা হলুদ ফলটা ফস ফস করে চিবুতে থাকলো সে। শুকনো পাতার মতোন মুখ হয়ে আছে রবির। রবি বলতে লাগলো, ‘দুটো ডানা ছিলো মেয়েটির। সাধারণত লোকে একে পরী বলে থাকে। মানুষ কখনো…

Read More
কবিতা 

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে…

আসড় অনুভব আহমেদ শব্দকে নিঃশব্দ করে দিয়ে তাকিয়ে থাকি অনন্তের দিকে  মিলাই না আর নিজেকে আরও গভীরে নিমজ্জন পৃথিবীর তূর্ণাভ গাঢ় স্বরে কাঁদে বাবলা গাছ নম্র ধারণার গাঢ় শরীরে খঞ্জরপ্রবণ নিঃসঙ্গতা মানুষ মূলত প্রতারণাই, ফাঁদ পেতে আটকে থাকে  রাতের ঠোঁটে ঠোঁট চেপে হজম করে নেয় নিজেকে আহা রোদ! নগ্ন মাঠে কিশোরের দেহ উপল ধারা, কেবল সকাল হলো বুনেছে সে বাসনার বীজ ঢেউয়ের ভেতর থেকে জাল কেটে বেরিয়ে  তোমাকে ছোঁবো? তোমার উদ্দেশ্যহীন সারাদিন  মাস্ক এটে বসে থাকে বোধ, নিঃশ্বাস বিদখুটে খুব জিরাফের দেশে আকাশ নীচু হয়ে বলে কথা, পিঁপড়ের দেশে উচ্চতার…

Read More
গদ্য গল্প 

বাদল ধারা’র দু’খানা অণুগল্প

আমতত্ত্ব আজ ভোর থেকে রবীন্দ্রনাথ আমার ভেতরে গুনগুন করে গাইছে, তাঁর হাত ধরে আমার ঘুরতে ভালো লাগে, কিছু কিছু নিঃসঙ্গ প্রহরে রবীন্দ্রনাথ আমার সঙ্গী হয়, আমার সংগীত  হয়,  হঠাৎ করে শেষের কবিতার কথা মনে পড়লো  মলাট ফুঁড়ে হাত নাড়ালো অমিত,  অমিত বললো, “যে পক্ষের দখলে শিকল আছে সে শিকল দিয়েই পাখিকে বাঁধে,  অর্থাৎ জোর দিয়ে। শিকল নেই যার সে বাঁধে আফিম খাইয়ে, অর্থাৎ মায়া দিয়ে।  শিকলওয়ালা বাঁধে বটে কিন্তু ভোলায় না, আফিমওয়ালী বাঁধেও বটে ভোলায়ও।  মেয়েদের কৌটো আফিমে ভরা, প্রকৃতি-শয়তানী তার যোগান দেয়।”  আমি মুচকি হেসে অমিতকে ফজলি আম খেতে…

Read More
কবিতা 

আরাফাত মাহমুদের তিনটি কবিতা

জীবনমাত্রা আমাদের অমিত্রাক্ষর প্রেমের স্বরব্যঞ্জনা সুখে ঘুচিয়ে দিবো অমরাফুলের দুঃখ। তারপর ফিরে যাবো মুক্তছন্দ প্রেমে— আমাদের সূচনাসুখে। প্রেমবানে সারিয়ে তুলবো রাষ্ট্রীয় বিমার, দূরস্থ দেহে বাজাবো পঞ্চানন্দের সুর। আর অস্থির সময়ে লিখবো উর্জস্বী প্রেম অথবা ঘরহীন সংসার। গারদ এণ্ড ব্রাদার্স প্রেমে ও মসনদে, আদরে ও খুনে, গারদ এক আশ্চর্যতম উৎযাপন— গারদ মূলত ঝুলে থাকে ক্ষমতার অলিন্দে। গারদহীন পৃথিবীতে ক্ষমতা মিথ্যা ও ফিকে। পাখির দাঁত মানুষ কখনো পাখি হতে চায় না তারা চায় তাদেরও থাকুক দুটি কার্যকর পাখা

Read More