গদ্য মুক্ত গদ্য 

এদুয়ার্দো গ্যালেয়ানোর তিনটি গদ্য, ভাষান্তর- মঞ্জুরুল ইকরাম

লাতিন আমেরিকান সাহিত্যিক এদুয়ার্দো গ্যালেয়ানোকে এমন এক পুলিশ বলা যেতে যিনি ক্ষমতাশালীর কলমে লেখা ইতিহাসের চাতুর্য্যকে গ্রেফতার করেছেন। তাকে বলা যায় এমন এক মারদাঙ্গা কবি যার হাতে ছোট্ট সব গল্পে অন্ত্যজ সাধারণের বয়ানে সৃষ্টি হয়েছে অভিনব এক জুক্সটাপোজ, যাকে কবিতা বললেই বেশি মানায়। ফুটবল অন্তঃপ্রাণ এই মহান সাহিত্যিকের দিকে বিশ্বের নজর জোরেশোরে পড়ে যখন হুগো চাভেজ বলিভিয়া সফরে আসা বারাক ওবামার হাতে তুলে দেন গ্যালেয়ানোর ‘ওপেন ভেইনস অব লাতিন আমেরিকা’ বইটা। তবে মিররস মূলত আকারে ও প্রকারে আরো হয়তো বিশাল। প্রাগৈতিহাসিক থেকে বর্তমান মানুষের গল্প বলে গেছেন তিনি প্রতিচ্ছায়াবাদী বিবরণ…

Read More
গদ্য পর্যালোচনা 

ফালগুনী রায়ের কবিতায় সত্তা ও অন্যান্য ডিসকোর্স ।। মমিন মানব ।। ১ম পর্ব

অশুদ্ধ চিন্তার এক কবিতাঅলা কবিতা মূলত কবির অনুবাদকৃত সত্ত্বা; যা অক্ষরে অক্ষরে প্রকাশিত হয়। কবি তার স্বপ্ন ছাড়া ভিন্ন কোনো সত্ত্বা নয়। তাই কবিতা গুলো কবির স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন আকঙ্খা-অনাকাঙ্খা প্রেম-অপ্রেম বাঁচা-নাবাঁচা সবকিছুকেই প্রকাশ করে। একই সাথে নিজেকে চিনতে গিয়ে কবি তখোন প্রশ্ন করে সবকিছুকে। তখোন কবি ধর্মের ভিতর খুঁজে পায় অর্ধমকে ইতিহাসের ভিতরে খুঁজে পায় মিথ্যাচারকে আইনের ভিতরে খুঁজে পায় আইনবহির্ভূত ব্যবস্থাকে। তাই সবগুলো বিষয়ে কবি নিজের ভিতরে নতুন এক সঙ্গা ধারণ করে। এবঙ লালনও করে। কবিতা তখোন আর আগের মতোন কবিতা থাকে না; হয়ে উঠে অকবিতা নাকবিতা অথবা অকাব্যিক কবিতা।…

Read More
কবিতা 

কবির হোসেনের কবিতা

তলপেটের ব্যথা রশি দিয়ে মানুষ বেঁধে রাখা হয় নাকি মানুষ দিয়ে রশি?—তর্ক যেদিকেই গড়াক না কেনো, মানুষ মুক্ত হলে জানি রশিও মুক্ত হয় অথবা রশি মুক্ত হলে মুক্ত হয় মানুষ! আমারও কোথায় যেন প্যাচ লেগে আছে, তলপেটের ব্যথার মতো চিনচিনিয়ে ওঠে। আমাকেও কি বেঁধে রাখা হয়েছে অথবা আমাকে দিয়ে কাউকে? জানি না কোথায় সেই বাঁধন, কোথায়ইবা বাঁধনের যন্ত্রণা! আমি কেবল ব্যথা পাই, কিসের টানে যেন আমার সেন্টার ছিঁড়ে যায়! নাভিতে হাত দিয়ে বুঝি—নিজের সাথেই গিট লেগে থাকা আমি এক আশ্চর্য রশি!   আকাশিগাছের গোড়াপত্তন আকাশকে আগুনে ফুটিয়ে আবিষ্কার করা হয়েছিল—মেঘগুলো…

Read More
গল্প 

পরিসমাপ্তি ।। সারোক শিকদার

লাশটা চাদরে ঢেকে আমি লিও রোজাসের প্যান ফ্লুট ছাড়লাম। শীতকাল। এক ঝাঁক তীব্র রোদ নিষিদ্ধ সিনেমার পোস্টারের আকৃতিতে লেপটে আছে মেঝেতে অথবা আমি কি এখন তুর পর্বতে দাঁড়িয়ে! দেয়াল ভেদ করে একি ঈশ্বরের আলো! আমার হাতে মসীহের লাঠির আদলে একটি ছুরি, যার জিহ্বা গড়িয়ে লোহিত ধারা নামছে…আঙুল ভিজিয়ে…কব্জি ভিজিয়ে… চকচকে টাইলসের উপর। বিন্দু বিন্দু কৃষ্ণচূড়া। অথচ আরও বেশি অন্ধকার আরও বেশি প্রয়োজন। জানলার পর্দাটা ঠিক করতে গিয়ে দেখলাম বাইরে বেশকিছু শুকনো পাতার উপর দিয়ে নয় মার্কা চকচকে কাঠবিড়াল ঘুরছে। আমার পরিচিত। একবার ইচ্ছা করছিল ওদেরকে ঘরে আমন্ত্রণ জানাতে। আবার মনে…

Read More
গল্প 

কলমি ।। তাইবা তুলবি

একটি ছোট্ট মেয়ে, তার নাম কলমি। ক্লাস টু-তে পড়ে। দেখতে মিষ্টি হলেও চুপচাপ গোছের সে নয়। বুদ্ধিমতী এবং বেশ পাকা কথাবার্তা। সে হাঁটছে তার মন যেদিকে যেতে চাইছে। স্কুল ড্রেস পড়ে হাঁটছে মুক্ত পাখির ডানার মতন উড়ু মনে। দু’পাশে গাছ মাঝে রাস্তা, ঠান্ডা হাওয়া। সাদা ফিতায় তার চুল দুলছে। অপরিচীত রাস্তায় তার হাঁটতে মোটেও দ্বিধা হচ্ছে না। স্কুল একটা জেলখানা। পোশাক পরে কয়েদিরা যেমন যায় ঠিক তেমনই, মনে মনে ভাবে কলমি। আজ সে স্কুলে যাবেই না। স্কুলে যেতে তার একদমই ভালো লাগে না। আজ সে হাঁটবে। স্কুল চুরি করবে। হাঁটতে…

Read More
গল্প 

দ্বন্দ্ব ।। তাসনিম হালিম মিম

রোজকার আড্ডা দেওয়ার জায়গাটা অনেক বেশি শান্ত দেখাচ্ছে। হল্লানেই, তর্কনেই। দেখে মুহিব নিজের অজান্তেই সামান্য চমকায় তাদের পাড়ায় ঢোকবার এবং বের হবার যে একমাত্র রাস্তা সেটির মাথাতেই ঈসমাইল চাচার চায়ের দোকান। দোকান ঘেঁষে বসিয়ে রাখা তিন চারটি কাঠের বেঞ্চ মুহিব আর তার বন্ধুদের আড্ডা মেরে সময় কাটাবার তীর্থস্থান। মুহিব, অনন্ত রহমান, আর মাঝে মাঝে সেতু। এই পাড়ায় মুহিবরা আসার পর থেকেই ওদের সাথে বন্ধুত্ব। পকেটে কড়ির ঘাটতি থাকায় এবং ঈসমাইল চাচার উপর মায়া পরে যাওয়ায়, একেবারেই বাহুল্য বিবর্জিত এই চায়ের দোকান ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে বসার কথা ওরা ভাবতেও পারেনা।…

Read More