Press ESC to close

কবির হোসেনের কবিতা

তলপেটের ব্যথা
রশি দিয়ে মানুষ বেঁধে রাখা হয় নাকি মানুষ দিয়ে রশি?—তর্ক যেদিকেই গড়াক না কেনো, মানুষ মুক্ত হলে জানি রশিও মুক্ত হয় অথবা রশি মুক্ত হলে মুক্ত হয় মানুষ! আমারও কোথায় যেন প্যাচ লেগে আছে, তলপেটের ব্যথার মতো চিনচিনিয়ে ওঠে। আমাকেও কি বেঁধে রাখা হয়েছে অথবা আমাকে দিয়ে কাউকে? জানি না কোথায় সেই বাঁধন, কোথায়ইবা বাঁধনের যন্ত্রণা! আমি কেবল ব্যথা পাই, কিসের টানে যেন আমার সেন্টার ছিঁড়ে যায়!

নাভিতে হাত দিয়ে বুঝি—নিজের সাথেই গিট লেগে থাকা আমি এক আশ্চর্য রশি!

 

আকাশিগাছের গোড়াপত্তন

আকাশকে আগুনে ফুটিয়ে আবিষ্কার করা হয়েছিল—মেঘগুলো হাওয়ার সাথে উড়ে যায় আর পাতিলের তলায় জমে থাকে নীল রঙের উদাসিনতা। এইসব উদাসিনতা উর্বর মাটিতে রোপণ করলে একেকটা গাছ হয়ে ওঠে, আর পাতাগুলো হয়ে ওঠে মেঘ। গাছের গোড়ায় নিয়মিত শরত ঢেলে দেখেছে পাতাগুলো সাদা হয়ে ওঠে, আর বর্ষা দিলে হয়ে ওঠে ঘনকালো দুধেল। বর্ষাকালই আকাশিগাছের শীতকাল, সামান্য হাওয়াতেই পাতাগুলো ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে।
বৃষ্টির জল শুকিয়ে, পাতিলের তলা থেকে নীল রঙের বীজ তৈরী হয়। 

 

 

হাতুড়ে ডাক্তার

হাতুড়ির ঘ্রাণ পেতেই কাঠের শরীরে লোমের মতো পেরেকগুলো জেগে ওঠে, কাঠের ক্ষতগুলো কাঁচা হয়ে ওঠে ক্রমশ। পেরেকের কাঁপুনি রোগে ক্ষতগুলো গর্ত হয়ে ওঠে। আর কাঠের ঘরটি যেন বাতের ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠে, গিঁটে গিঁটে ব্যথা হয় যেন আমাবস্যার আঘাতে। কাঠ চেয়েছিল হাতুড়ির ভয়ে কাঁপতে থাকা পেরেকের বেরিয়ে আসাতে সাঁড়াশি অভিযান চলুক অথবা কোনো কবিরাজ জিকির করতে করতে বাণ দেওয়া তাবিজের মতো তুলে আনুক পেরেকগুলো।

অথচ একজন হাতুড়ে ডাক্তার, ঘরের যেখানে যেখানে ব্যথা সেখানে সেখানে হাতুড়ি চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে! 

 

চাঁই

অন্ধকার সব নদীতে, আলকাতরা ঢেউ ঢেউ খেলতো আর আমরা ঝাঁকিজালের মতো মশারি ছড়িয়ে দিতাম চুপিসারে—মাছের মতো কতো কতো মশা উঠে আসতো জালে! এখন আর সে-সব নদী নেই, তৃষ্ণার্ত বিদ্যুতের চুমুকে কেবলি শূন্য গ্লাস। কিছু নদী অবশ্য আটকে আছে ঝোপঝাড়ে। তবে ঝোপঝাড় ঝাঁকিজাল বিরোধী বলে, মশারি থেকে আমাদের একদিন ঝাঁকিজালের ধারণা গুটিয়ে ফেলতে হয়, আসতে হয় মশারি পেতে রাখার ধারণাতে। মশারি টানাতেই যখন দেখি মশারির ভেতরে ঢুকতে মশা দলে দলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, আমরা মশারিতে বড় বড় ফাঁদ-ফুটো করে চাঁই পেতে রাখার সিদ্ধান্তে আসি।
এখন ভেতরে মানুষের আদার রেখে, মশারি পেতে রাখি মশা ধরতে! 

 

 

ধূসর রাত

আগে কেবল জোৎস্নার অত্যাচার ছিল—হুটহাট রাতের জমিনে সাদা পাউডার ছিটিয়ে দিত। তারপর একদিন বিদ্যুৎ ওয়াশিং মেশিনে রাতকে আচ্ছা মতো ধুয়ে দিলো। আর আমাদের কালো চাদর রং উঠে হয়ে গেলো ধূসর। ধূসর রাত এখন কাউকে আর তেমন আড়াল করতে পারে না, পারে না আলোকে আর অতোটা উজ্জ্বল করতে। জোনাকিরাও যেন খুব ক্লান্ত হয়ে গেছে, নিজেদের হারিকেন নিভু নিভু করছে।

শুনেছি জোনাকিরা ইদানিং গোপনে কেরোসিন পান করে!

 

 

পাঁচটাকার কয়েন

পাঁচটাকার একটি কয়েন দাঁড়িপাল্লায় মেপে দেখি ওজন পাঁচটাকাই! তার ওপর একটাকার আরেকটি কয়েন রাখি, আর আশ্চর্য হয়ে দেখি—ওজনে কোনো তারতম্য ঘটেনি। পাঁচটাকার কয়েনটি নিজের ওজন থেকে সরে দাঁড়ায়নি একবিন্দুও, একটাকার সাথে মিলে যায়নি ছয়টাকার ওজনে। একটাকার সাথে যেন তার দ্বন্দ্ব চলছে, অথবা মিশতে বারণ আছে। পাল্লার অপর পাশে একটাকার গুনে গুনে ছয়টি কয়েন রেখে দেখেছি, ওজনে আসে না সে সমান হতে।
পাঁচটাকার একটি নোট রাখতেই দেখি—দৌড়ে আসে ওজনে সমান হতে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *